ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক খড়্গ থেকে রক্ষা পায়নি অ্যান্টার্কটিকার বরফে ঢাকা, জনশূন্য, আগ্নেয়গিরিময় দ্বীপপুঞ্জ। যেখানে শুধু পেঙ্গুইন আর সিল মাছের বাস। এসব দ্বীপের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অস্ট্রেলিয়ার অদূরে অবস্থিত হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপপুঞ্জ। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় পার্থ থেকে সেখানে যেতে সপ্তাহখানেক সময় লাগে। নৌপথ ছাড়া প্রবেশের অন্য কোনো উপায় নেই। ধারণা করা হয়, প্রায় এক দশক দ্বীপ দুটিতে কোনো মানুষের পা পড়েনি। তবে বুধবার মার্কিন হোয়াইট হাউজ প্রকাশিত নতুন শুল্কের তালিকায় জায়গা পেয়েছে হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ। এর পরিপ্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেছেন, ‘পৃথিবীর কোনো জায়গা নিরাপদ নয়।’ হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার কোকোস (কিলিং) দ্বীপপুঞ্জ ও ক্রিসমাস দ্বীপের ওপরও ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আর মাত্র ২ হাজার ২০০ বাসিন্দার আবাসস্থল নরফোক দ্বীপের ওপর আরোপিত হয়েছে ২৯ শতাংশ শুল্ক। অবজারভেটরি অব ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ৬ লাখ ৫৫ হাজার মার্কিন ডলারের (প্রায় ১০ লাখ ৪০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার) পণ্য রফতানি করেছে নরফোক দ্বীপ। এর মধ্যে ৪ লাখ ১৩ হাজার মার্কিন ডলারের (প্রায় ৬ লাখ ৫৮ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার) চামড়ার জুতা ছিল প্রধান রফতানি পণ্য। যদিও নরফোক দ্বীপের প্রশাসক জর্জ প্ল্যান্ট এ তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। হার্ড দ্বীপ ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপের রফতানির তথ্য কৌতূহল জাগানিয়া। এসব দ্বীপে একটি মাছ ধরার এলাকা থাকলেও কোনো স্থাপনা বা জনবসতি নেই। তবু বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র হার্ড ও ম্যাকডোনাল্ড দ্বীপ থেকে ১৪ লাখ মার্কিন ডলারের (প্রায় ২২ লাখ ৩০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার) পণ্য আমদানি করেছে, যার প্রায় সবই ছিল যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম। তবে এসব পণ্য আসলে কী—তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে সঠিক তথ্য জানতে হোয়াইট হাউজ, অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অস্ট্রেলিয়ান অ্যান্টার্কটিক বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বিবিসি। বিশ্বব্যাপী অনেক সরকারের মতো, অস্ট্রেলিয়ার নেতারা এ শুল্ককে হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন। খবর বিবিসি ও রয়টার্স